রাহুল দেববর্মণের জীবনের শুরু দিকের জার্নিটা কিন্তু বেশ মজাদার! মানে সিনেমায় কাজ পাবার গল্পটা সিনেমার মতোই রোমাঞ্চকর। তখন রাহুল দেববর্মণ তাঁর বাবা শচীন দেববর্মণের সহকারী হিসেবে কাজ করছেন। শচীন কর্তা তখন খ্যাতির মধ্য গগনে। দম ফেলবার সময় নেই। কাজের চাপ এত পরিমানে ছিলো যে একটা সময়ে শচীন দেববর্মণ তাঁর পরিচিতদের ও এটা বলতে বাধ্য হতেন যে - "প্রচন্ড চাপ রয়েছে আমি এই মুহুর্তে আপনার সিনেমাতে মিউজিক করতে পারছি না"
যে সময়ের গল্প আমি আপনাকে বলছি সে সময়ে মেহমুদ সাহেব সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি একটা সিনেমা বানাবেন এবং এটাও সিদ্ধান্ত নিলেন যে তাঁর সিনেমার মিউজিক যদি কেউ করেন তাহলে সেটা শচীন দেববর্মণ ই করবেন। তখন প্রস্তাব নিয়ে তিনি শচীন কর্তার কাছে গেলেন এবং চূড়ান্ত ব্যাস্ত শচীন বাবু মেহমুদ সাহেবের প্রস্তাব না করে দিলেন শুধু এই যুক্তি দেখিয়ে যে - "না আমি এখন আর নতুনদের কাজ করছি না তুমি অন্য কাউকে দিয়ে কাজটা করিয়ে নাও"
মেহমুদ সাহেব অনেকবার বোঝানোর চেষ্টা করলেন। কিন্তু শচীন কর্তা নারাজ; তিনি কিছুতেই করবেন না। বার বার বলছেন তুমি অন্য কাউকে দিয়ে করিয়ে নাও তখন উপায় না দেখে মেহমুদ সাহেব শচীন দেববর্মণের ঘরে বা পাশে বসে থাকা রাহুল দেববর্মণের হাতে সিনেমার কন্ট্রাক্ট পেপার দিয়ে বললেন আপনি আমার মিউজিক ডিরেক্টর আপনি আমার ছবিতে মিউজিক করবেন
হঠাৎ করে এই প্রস্তাব পেয়ে রাহুল দেববর্মণ নিজেও হতবম্ভ হয়ে গিয়েছিলেন এবং অবাক হয়েছিলেন শচীন কর্তা নিজেও কিন্তু তিনি নিজে বলে দিয়েছেন তিনি এই কাজটা করতে পারবেন না। মেহমুদ সাহেব ইতোমধ্যই রাহুল দেববর্মণকে এপ্রোচ করে ফেলেছেন যে মেহমুদ ইতোমধ্যই তাদের পরিচিত ফলত উপায় না দেখে রাহুল দেববর্মণ সেই প্রস্তাব মেনে নিলেন এবং মেনে নিলেন শচীন দেববর্মণ নিজেও
রাহুল দেববর্মণ তিনি প্রথমবার হিন্দি সিনেমায় সুর দিলেন। সিনেমার গান সুপার ডুপার হিট হলো এবং ভারতীয় সংগীত জগতের আকাশে রাহুল দেববর্মণ নামক ধ্রুব তারাটির উদয় হলো