শচীন দেববর্মণ এবং রাহুল দেববর্মণ দুজনই প্রতিভা শব্দটির সঠিক উদাহরণ। পিতার কাছে পুত্রের কোন ঋণ হয় না। তবুও শচীন কর্তা যেমন মার্কো সংগীতের ক্ষেত্রে পিতাকে গুরু বলেছিলেন তেমনি রাহুল দেববর্মণ ও স্বীকার করে গেছেন যে, পিতা শচীন দেববর্মণের উত্তরাধিকার রক্তে তাঁর সঙ্গীতের জন্ম দিয়েছে।
শুধু পিতাই ক্যানো? রাহুল দেববর্মণের মা মীরা দেবীও ছিলেন ওস্তাদ ফয়াজ মহম্মদ খানের শিশ্যা। নাচের তালিম নিয়েছিলেন অমর্ত্য সেনের মা অমিতা সেনের কাছ থেকে। শচীন দেববর্মণের বহু গানের গীতিকার ছিলেন মীরা দেবী।
সর্বগুণ সম্পন্ন এমন পত্নী সম্পর্কে শচীন দেববর্মণ নিজেই বলে গিয়েছেন - আমি মীরার মত সহ-ধর্মিনী লাভ করে নিজেকে সর্বদাই অত্যন্ত ভাগ্যবান মনে করেছি। এমন একটি পরিবার যেখানে তিনজন (শচীন দেববর্মণ, রাহুল দেববর্মণ, মীরা দেববর্মণ) প্রতিভাশালী মানুষের সমাহার ভারতবর্ষের বিপ্লবে সেই পরিবারের যে বিরাট ভুমিকা থাকবে তাতে আর অবাক হবার মত কিছু নেই
🎵 গানের নাম - তাকডুম তাকডুম বাজাই
🎧 Song Credits:
🎵 গান - Ami Takdum Takdum Bajai
🎬 অ্যালবাম - The Incomparable Sachin Dev Burman
Ami Takdum Takdum Bajai Song Lyrics 👇
তাকডুম তাকডুম বাজাই
আমি তাকডুম তাকডুম বাজাই
বাংলাদেশের ঢোল
আমি তাকডুম তাকডুম বাজাই
সব ভুলে যাই
সব ভুলে যাই
তাও ভুলি না বাংলা মায়ের কোল
বাংলা জনম দিলা আমারে (২ বার)
তোমার পরান আমার পরান
এক নাড়িতে বাঁধা রে
বাংলা জনম দিলা আমারে
মা-পুতের এ বাঁধন ছেড়ার
সাধ্য কারো নাই
সব ভুলে যাই
তাও ভুলি না বাংলা মায়ের কোল
তাকডুম তাকডুম বাজাই
আমি তাকডুম তাকডুম বাজাই
বাংলাদেশের ঢোল
আমি তাকডুম তাকডুম বাজাই
মা তোমার মাটির সুরে সুরেতে (২ বার)
আমার জীবন জুড়াইলা
মাগো আমার জীবন জুড়াইলা
বাউল ভাটিয়ালিতে
মা তোমার মাটির সুরে সুরেতে
পরান খুইলা মেঘনা তিতাস
পদ্মারই গান গাই
সব ভুলে যাই
তাও ভুলি না বাংলা মায়ের কোল
তাকডুম তাকডুম বাজাই
আমি তাকডুম তাকডুম বাজাই
বাংলাদেশের ঢোল
আমি তাকডুম তাকডুম বাজাই
বাজে ঢোল নরম গরম তালেতে (২ বার)
বিসর্জনের ব্যাথা ভোলায়
আগমনের সুরেতে
বাজে ঢোল নরম গরম তালেতে
বাংলাদেশের ঢোলের বোলে
ছন্দ পতন নাই
সব ভুলে যাই
তাও ভুলি না বাংলা মায়ের কোল
তাকডুম তাকডুম বাজাই
আমি তাকডুম তাকডুম বাজাই
বাংলাদেশের ঢোল
আমি তাকডুম তাকডুম বাজাই
সব ভুলে যাই
সব ভুলে যাই
তাও ভুলি না বাংলা মায়ের কোল
বাংলা মায়ের কোল
বাংলা মায়ের কোল
বাংলা মায়ের কোল
আমি তাকডুম তাকডুম বাজাই
বাংলাদেশের ঢোল
🔊 আমার মতামত - শচীন দেবের গান শুকনো হৃদয়ে জোয়ার এনে দেয়। বার্ধক্য ভুলিয়ে দিয়ে চির যৌবনের দুয়ারে এনে দিতে পারে। যতদিন বাংলা ও বাঙালির অস্তিত্ত্ব থাকবে পৃথিবীতে, যতদিন চাঁদ সূর্য উঠবে আকাশে ততদিন বাঙালি- হৃদয়ের অন্তঃস্থলে অনুরণিত হবে এই সুর, এই কথা, এই গায়কী।
একটা কথা মনে রাখা উচিত আমাদের - গানের কোন দেশ হয় না ধর্ম হয়না জাত হয়না গান কোন কাঁটা তারের নিষেধ মানেনা। অনেক সময় বাংলাদেশী এবং পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি ভাইদের সাথে একটা দ্বন্দ্ব থাকে যে- এই গানটা বাংলাদেশের। তবে জেনে রাখা উচিত এই গানের শিল্পী শচীন দেববর্মণের জন্ম বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলাতে। এ জন্য মীরা দেববর্মণ এই গানে মেঘনা তিতাস পদ্মা এই নদী গুলোর নাম উল্লেখ করেছেন।
সে সময়ে বাংলাদেশ নামে আলাদা কোন দেশ ছিল না। তারা জানতেনও না বাংলাদেশে বলতে কোন একটা দেশের সৃষ্টি হবে। সুতরাং গীতিকার বাংলাদেশ বলতে সমস্ত বঙ্গদেশকে বুঝিয়েছেন। সেটা হোক পশ্চিমবঙ্গ বা পূর্ববঙ্গ। পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের গীতিকার কবি সকলে মিলে বাংলা সাহিত্যকে সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছেন। এটাই বড় কথা। বাংলা ভাষা হলেই সেটা বাঙালির। কোন ভাগ হবে না। জয় বাংলা
এই গানটার কথা রচনা করেন মীরা দেববর্মণ। সুর, মূল কম্পোজিশন, কণ্ঠ শচীন দেববর্মণের। এই গানটার মতই শচীন কর্তার আরো অনেকগুলো বিখ্যাত গান মীরা দেববর্মণের রচনা। সেগুলোর মধ্যে আছে-
নিটোল পায়ে রিনিক ঝিনিক,
ঘাটে লাগাইয়া ডিঙ্গা,
শোন গো দখিন হাওয়া,
কে যাস রে ভাটি গাঙ বাইয়া,
বর্ণে গন্ধে ইত্যাদি। কী অসাধারণ জুটি ছিলেন তাঁরা দুজন ❤️