মঞ্জুশ্ৰী দাসগুপ্তের কাছে তাঁর স্বামী সুধীন দাসগুপ্ত ছিলেন এক আশ্চর্য হৃদয়বান মানুষ। সুধীন বাবুর শাশুড়ি গান ভীষন ভালোবাসতেন। একটা গানের প্রতিযোগীতায় শচীন দেববর্মণের স্ত্রী মীরা দেববর্মণ এবং সুধীন দাসগুপ্তের শাশুড়ি জ্যোৎস্না রায় তারা একই সাথে অংশ নিয়েছিলেন। গান অত্যন্ত পছন্দ হওয়ার কারনে মীরা রায় চেয়েছিলেন যে তাঁর মেয়ের বিয়ে হোক এমন একজনের সাথে যিনি গান ভালোবাসেন। যিনি গানের সাথে জড়িয়ে থাকা মানুষ, যার জীবনটা গানের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে রয়েছে
যে সময়ে সুধীন বাবুর বিয়ে হয় সেই সময়ে জনপ্রিয় ফ্লিম ম্যাগাজিন উল্টো রথে তাঁর নিয়মিত ছবি বের হচ্ছে। সব সময়ে গানের জগতের লোক, তারকা, সেলিব্রেটি তাদের সাথে ওঠা-বসা। মঞ্জুশ্ৰী দাসগুপ্তের পরিবার থেকে এই রকম একজন মানুষের সাথে বিয়ে করার ব্যাপারে হালকা আপত্তি উঠেছিলো বটে কিন্তু মা মীরা রায় তাঁর ইচ্ছেতে মঞ্জুশ্ৰী দাসগুপ্তের সাথে বিয়ে হয় সুধীন দাসগুপ্তের
সৃতিচারণে মঞ্জুশ্ৰী দাসগুপ্ত লিখেছিলেন - বিয়ের আগে তারা থাকতে দু'কামড়ার একটা বাড়ীতে। বিয়ের পর তারা এসে পড়লেন একটা বড় দো'তলা বাড়িতে। পারিবারীক সংস্কৃতি যে আলাদা হয় সেটা মঞ্জুশ্ৰী দেবীকে প্রায় হাতে ধরে বুঝিয়েছিলেন সুধীন দাসগুপ্ত। তাকে অনেক কিছু শিখিয়েছিলেন; যে শেখা গুলো গোটা জীবন তাঁর পাথেয় হয়ে রয়ে গেছেন। মঞ্জুশ্ৰী দেবী বলেছিলেন যে - বাচ্চাদের তিনি ভালোবাসতেন খুব। ভাইবো-ভাইজিরা ওনার সাথে একেবারে সমবয়সী বন্ধুর মত ব্যাবহার করতো, চুল বেঁধে দিত, নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী মাথা আচড়ে দিত। পোশাক পরিচ্ছদে যে মানুষটা একেবারে সৌখিন, ফিটফাট এই মানুষটা কিন্তু এরকম চুল বাঁধা নিয়ে কোন রকম বিরক্ত তো হতেনই না বরং মজার মজার ছড়া লিখে দিতেন বাচ্চাদের জন্যে আর ওই সমস্থ বাচ্চারা সুধীন দাসগুপ্তকে বলতেন "গান কাকা"
তো এই গান কাকা অর্থাৎ সুধীন দাসগুপ্তের যখন বিয়ে হয় তখন মঞ্জুশ্ৰী দেবীর বয়স অনেক কম। অত বড় একজন ব্যাক্তিত্বকে জানা বা বোঝার অভিজ্ঞতা, বুদ্ধি, বিবেচনা তাঁর মধ্যে ছিলো না এটা তিনি নিজে স্বীকার করেছেন সৃতিচারণে কিন্তু কোনটাতেই অসুবিধে হয়নি শুধুমাত্র সুধীন দাসগুপ্তের জন্যে। আচার, ব্যাবহার, চিন্তা, ভাবনা, পরিবেশ, পরিস্থিতি সমস্থ কিছুর সুর সুধীন বাবু লিখে গেছেন তাঁর স্ত্রীর জন্যে - একটা গান লিখো আমার জন্যে (Ekta Gan Likho Amar Jannya)
Ekta Gaan Likho Amar Janyo Song Lyrics 👇
🔊 শেষ কথা - স্ত্রীর কাছে তাঁর স্বামী বরাবরের মতোই বড্ড স্পেশাল হয়ে থাকে কিন্তু সুধীন দাসগুপ্তের স্ত্রীর কাছে বোধয় সাধারণের থেকে একটু বেশি স্পেশাল ছিলেন তাঁর বিখ্যাত কর্তাটি। এই পোষ্ট পড়ে যদি আপনার মনে হয় এখানে দেয়া কোন তথ্য ভুল আছে তাহলে কমেন্টে জানাতে পারেন। আমি আমার ভুল সংশোধন করার চেষ্টা করবো। লিখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে ❤️