তখনকার সময়ে কোন এক শিল্পীর কথা ভেবে গান বানানো হতো এবং সেই শিল্পীকে সেই গানই গাইতে হত। একবার ১৯৬৯ সালে সুধীন দাশগুপ্ত প্রিয় এক ছাত্রীর জন্য গান বানিয়েছেন। গানটি সেই ছাত্রীকে শোনা হলো এবং ছাত্রী গান শুনে আবদার করে বসলেন যে, এ গানটা আমাকে বদলে দিন; এ গানটা আমি গাইতে পারবো না। গানটা খুব ভালো, দারুণ গান কিন্তু এ গানটা আমি গাইবো না এ গানটা আমাকে বদলে দিন
সেই ছাত্রীর মুখে এই রকম আবেদন শুনে সুধীন বাবু রীতিমত অবাক। বার বার জিজ্ঞাসা করলেন কি হয়েছে সমস্যা? গানটা কি তোমার পছন্দ নয়? গানটা তুমি গাও মানুষজন খুব পছন্দ করবে। গানটা ভালো লাগবে তোমার গলায় কিন্তু সেই শিল্পী নাছোর। না, তাকে গান বদলে দিতেই হবে। শেষে অনেক চাপা-চাপিতে সেই ছাত্রী বলে উঠলেন - এই গানটা না হয় আমি স্টুডিওতে গেয়ে দিব, গানটা রিলিজ হবে, সুপার হিট ও হবে কিন্তু তারপর তো পাবলিক অনুষ্ঠানে এই গান আমাকে গাইতে হবে। ওটা আমি পারবো না আপনি আমাকে গানটা বদলে দিন। ছাত্রীর আবদারে মন গললো সুধীন বাবুর। তিনি গানটা বদলে দিয়ে অন্য একটা গান দিলেন সেই ছাত্রীকে।
ঘটনা চক্রে যে গানটাকে সেই ছাত্রীকে দিলেন সে বছর সেই শিল্পীর গলায় গানটা সুপার হিট হলো এবং অরিজিনালি যে গানটা সুধীন বাবু তুলে রেখেছিলেন ওই শিল্পীর জন্যে সেই গানটা সে বছর রিলিজ হলো না। সেই কঠিন গানটা রিলিজ হলো না। এতক্ষন যে ছাত্রীর কথা বললাম তাঁর নাম বনশ্রী সেনগুপ্ত। কঠিন গানটা বদলে যে গানটা তাকে দেয়া হয়েছিলো সেই গানটা ছিলো - একদিন দিন সেই সংগীবিহীন আর যে গানটা তাকে দেয়া হচ্ছিলো সেই গানটা পরের বছর আরতি মুখোপাধ্যায় গাইলেন আর এই গানের নাম ছিলো - বন্য বন্য এ অরণ্য ভালো। এই গানের লিরিক্স শেয়ার করবো এই পোষ্টে