সুধীন দাশগুপ্তের ছেলে সৌম্য একবার আবদার করেছিলো বাবার কাছে যে, বাবা তুমি নানান রকম গান বানাও কই বাচ্চাদের নিয়ে তো কখনো কোন গান বানাও না। এবার তোমাকে বাচ্চাদের একটা গান বানাতেই হবে। বাবাও কথা দিলেন ছেলেকে যে - আচ্ছা তোমার জন্যে একদিন একটা ছোটদের গান বানাবো। তো এই ঘটনার বেশ কিছুদিন পেরিয়ে গেলো। সুধীন বাবুর ছোটদের গান আর বানানো হলো না। ছোট্ট সৌম্য আবার আবেদন জানালো বাবার কাছে যে, বাবা তোমাকে কিন্তু আমি বলেছিলাম - আমাকে একটা ছোটদের গান বানিয়ে দিতেই হবে। কোন কথা শুনবো না
ছেলের এই নাছোর আবদারে বাবা সুধীন দাসগুপ্ত ছোটদের নিয়ে গান বানাতে বসলেন। তো ঘটনা চক্রে তাদের বাড়ীতে সৌম্যর সাথে তাঁর এক পরিচারক থাকতো। নাম ছিলো বাহাদুর, বয়সে ওই ছোট সৌম্যর ই মত। তো সুধীন বাবু ছোট্ট সৌম্যকে বললেন, আচ্ছা আমি তোমার বাহাদুরকে নিয়ে গান লিখে দিবো। যেমন বলা তেমন কাজ। ছোট্ট পরিচারক বাহাদুরকে নিয়ে তৈরি হয়ে গেলো সুধীন দাশগুপ্তের গান। গানের লাইন গুলো ছিলো - "ছোট্ট বাহাদুর, যাচ্ছো কতো দূর? রাস্তা থেকে কিনে এনো গরম চানাচুর"
বাবার কাছে শেষ পর্যন্ত আবদার করে ছোটদের গান পেয়ে সৌম্য আর বাহাদুরের খুশি দেখে কে? একজন নিজের ইচ্ছে পুরন হয়েছে বলে খুশি আর অন্যজন তাকে নিয়ে গান লেখা হয়েছে বলে খুশি। এই ঘটনার পর বেশ কয়েক বছর পেরিয়ে গেলো। সাল ১৯৬৭। পুজোর গান বানাতে বসলেন সুধীন দাশগুপ্ত। এই গান শ্যামল মিত্র গাইবেন। কিরকম সুর বানাবেন, গানের কথা কি হবে এমন ভাবনাটা চলছে হঠাৎ তাঁর মনে হলো সুরটা হয়তো অনেকদিন আগে মাথায় বসেছিলো সেই সুরটা হঠাৎ করে উঁকি দিলো। ছেলের জন্য বানানো সেই গান - "ছোট্ট বাহাদুর, রাস্তা থেকে কিনে এনো গরম চানাচুর"
গানটা গুনগুন করতে করতে ওই গানেরই মিটারে সুধীন দাশগুপ্ত সৃষ্টি করলেন একটা অমর গান যেটা শ্যামল মিত্রের কন্ঠকে চির স্মরণীয় করে রেখে দিয়েছে। গানটা হলো - "কি নামে ডেকে বলবো তোমাকে, মন্দ করেছে আমাকে ঐ দু'টি চোখে" বাচ্চাদের জন্যে তৈরি করা ওই সুর প্রেমের নামে বসলে ফেললেন সুধীন দাশগুপ্ত। গানের নাম ছিলো - কি নামে ডেকে বলবো তোমাকে
🔊 শেষ কথা - এই পোষ্ট পড়ে যদি আপনার মনে হয় এখানে দেয়া কোন তথ্য ভুল আছে তাহলে কমেন্টে জানাতে পারেন। আমি আমার ভুল সংশোধন করার চেষ্টা করবো। লিখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে ❤️