এই সুবীর একটা গান লিখেছি শুনে যাও - সুধীন দাশগুপ্ত

বাঙালিদের বরাবরের অভ্যাস হচ্ছে তুলনা টানা! আমরা চিরকাল সৌমিত্র-উত্তমের তুলনা টেনেছি, আমরা চিরকাল হেমন্ত-মান্নার তুলনা টেনেছি সুধীন দাশগুপ্তের সাথে সলীল চৌধুরীর ও তুলনা টানা হত। আসলে সলীল-সুধীন এই দুজনের মধ্যে সর্বোচ্চ যোগ্যতা নিয়ে বাংলা গান তৈরি করার মানুষ খুব বেশি আসেন নি বাংলাতে। এনাদের মাঝে পেশাদারি পার্থক্যও খুব বেশি ছিলো না। দুজনেই অসংখ্য যন্ত্র একেবারে পেশাদারি দক্ষতায় বাঁজাতে পারতেন এবং এনাদের দুজনকে নিয়ে রিউমার ও ছিলো প্রচুর 

সুধীন দাশগুপ্ত কে নিয়ে যে জনপ্রিয় রিউমারটা ছিলো সেটা হচ্ছে, তিনি মুম্বাইয়ে গেছিলেন কিন্তু সফল হয়ে ফেরেন নি। এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে একবার সুবীর সেন বলেছেন যে, "আমাদের সমাজে কম জেনে বেশি বলার অভ্যেস রয়েছে"। সুধীন'দা মুম্বাইয়ে সংগীত পরিচালক হিসেবে কাজ করার জন্যে গেছিলেন বটে ফিরেও এসেছিলেন কিন্তু ব্যার্থ হয়ে ফেরেন নি

যে সময়ে তিনি মুম্বাইয়ে (তখনকার নাম বম্বে ছিলো) গেছিলেন সেই সময়ে সেখানে তীব্র বাসস্থানের সমস্যা ছিলো এবং আরো অনেক সমস্যাও ছিলো তবে তিনি সেখানে গেছিলেন মুলত গুরু দজ্জির আমন্ত্রণে। মুম্বাইয়ের সিনেমা জগতে সেই সময়ে ছিলো একটা অদ্ভুত ছবি মানে যারা তখন কাজ করতেন, ক্রিয়েটিভ ওয়ার্ল্ডের সাথে জড়িয়ে ছিলেন তাঁরা তখন হয়তো কোন একটা হাউজের সংগে রয়েছেন, দিব্বি বেতন পাচ্ছেন হয়তো সিনেমা কিংবা গানের কাজ তখনো শুরু হয়নি কিন্তু ওই মাসের পর মাস বসে বসেই তাঁরা বেতন পাচ্ছেন

এই ব্যাপারটা সুধীন বাবুর মাপের একজন পার্সোলান ক্রিয়েটিভিটির এটা ভালো লাগার কথা নয় তাই তিনি কলকাতায় ফিরে এসেছিলেন। তিনি মুখে হয়তো ঘোষনা করেন নি কিন্তু মনে মনে নিশ্চিত জানতেন বাংলা গানে তাঁর অনেক কিছু করার রয়েছে এবং এ ঘটনার সাক্ষী বোধয় একমাত্র ইতিহাস। সুধীন বাবু সম্পর্কে এ কথাগুলো যিনি বলেছিলেন সেই সুবীর সেন তিনি চিরকাল এটা বলে গেছেন যে, জীবনে তিনি অনেক জনপ্রিয় গান গেয়েছেন কিন্তু যে গানে তাঁর নিজের পরিচয় কথা ও সুরে বাঁধা হয়ে রয়েছে সেটা সুধীন দাশগুপ্তের অমর সৃষ্টি

যে গানটা গাইতে যাওয়ার আগে তৎকালীন গ্রামোফোণ কোম্পানির পি কে সেন তিনি শুনে একটু সময় নিয়ে বলেছিলেন - বাহ, সুবীর ভালো করে গেও; এই গান শুধু জনপ্রিয় নয় অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তখনকার দিনে বাংলা গানের জগতে পি কে সেনকে কার্যত জ্যোতিষী বলা হত কারন তিনি যতটা গান ভালো বুঝতেন সমকালীন পৃথিবীতে হাতে গোনা কয়েকজন মানুষ ছাড়া অত ভালো গান কেউ বুঝতেন না। তিনি বলেছেন মানে, সেই গানটার ভবিষ্যৎ একেবারে নিশ্চিত

একদিন সকাল বেলা হঠাৎ করেই  সুবীর সেনকে ডেকে সুধীন বাবু বললেন - এই সুবীর একবার এদিকে এসো, একটা গান লিখেছি শুনে যাও। গানের লাইনগুলো শোনার পর সুবীর বাবু মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন আর গানটা যেদিন রিলিজ করলো তখন সেই গানটা অমর হয়ে রয়ে গেলো বাংলা গানের ইতিহাসে। গানটা হলো - এত সুর আর এত গান, কোন দিন যদি থেমে যায়  ইতিহাস থামলেও থামতে পারে কিন্তু এই গানের আবেদন থেমে যাওয়া অসম্ভব


🔊 শেষ কথা - এই পোষ্ট পড়ে যদি আপনার মনে হয় এখানে দেয়া কোন তথ্য ভুল আছে তাহলে কমেন্টে জানাতে পারেন। আমি আমার ভুল সংশোধন করার চেষ্টা করবো। লিখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে ❤️

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম