সলিল চৌধুরীর ব্যাতিক্রমী গানের সুর সেই সাথে হেমন্ত মুখোপাধ্যয়ের দেবদত্ত গলা। বাঙালী অপেক্ষা করতো এই কম্বিনেশনের জন্যে। সে সময়ে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় বম্বেতে সেটেল এদিকে সলিল চৌধুরী তখনো কলকাতায় কাজ করছেন। বেশ কয়েকটা সিনেমার অফার আছে এই অবস্থায় সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের পালকির গান সুর করেছেন কিন্তু গানটা কাউকে দেন নি তখনো।
হেমন্ত বাবু কোলকাতায় এসে প্রথমে খোজ করলেন সলিল চৌধুরীর। সলিল বাবুও তাঁর সুর করা গানটা শুনিয়ে দিলেন সাথে গানের ধুন হিসেবে হুন হুন না যোগ করলেন। গান শুনে হেমন্ত বাবু খুব খুশি। বললেন এখুনি রেকর্ড করবো
এরকম একটা এক্সপ্রিমেন্টাল গান আদৌ বাঙালী নেবে কিনা তা নিয়ে অনেকে চিন্তিত ছিলেন। কিন্তু হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের একটা দারুন গুন ছিলো সেটা হলো যেকোন এক্সপ্রিমেন্টাল কাজকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহন করার সাহস আর এদিকে রিস্ক নিয়ে এগিয়েও এলো গ্রামোফোন কম্পানি। ১৯৫২ সালে রেকর্ড হলো এ গান আর তারপরে বাকিটা ইতিহাস। এই পোষ্টে সেই গানের লিরিক্স শেয়ার করবো
🎧 Song Credits:
Palkir Gaan Song Lyrics 👇
(হুন হুন না হুন হুন না হুন হুন না হেহুন হুন না
হুন হুন না হুন হুন না হুন হুন না হে হুন হুন না)
পালকি চলে হে (হুন হুন নাহুন হুন না)
পালকি চলে হে (হুন হুন না হুন হুন না)
পালকি চলে (হুন হুন না)
পালকি চলে পালকি চলে
গগন তলে আগুন জ্বলে
পালকি চলে পালকি চলে
গগন তলে আগুন জ্বলে
হে এ এ এ
স্তব্ধ গাঁয়ে, আদুল গায়ে
যাচ্ছে কারা, রৌদ্রে সারা!
(হুন হুন না হুন হুন না)
ময়রা মুদি (হুন হুন না)
চক্ষু মুদি (হুন হুন না)
পাটায় বসে, ঢুলছে কষে
দুধের চাঁছি (হুন হুন না)
শুষছে মাছি (হুন হুন না)
উড়ছে কতক ভনভনিয়ে,
ভনভনিয়ে আসছে কারা হনহনিয়ে!
(হুন হুন না হুন হুন না হুন হুন না হে হুন হুন না)
হাটের শেষে রুক্ষ বেশে
ঠিক দুপুরে ধায় হাটুরে
(হুন হুন না হুন হুন না)
কুকুর গুলো শুঁকছে ধুলো
ধুঁকছে কেহ, ক্লান্ত দেহ!
ঢুকছে গরু দোকান ঘরে
আমেরও গন্ধে; আমোদ করে
[পালকি চলে, পালকি চলে
পালকি চলে রে, পালকি চলে!
পালকি চলে, পালকি চলে
পালকি চলে রে, পালকি চলে!]
পালকি চলে, পালকি চলে এ হে
পালকি চলে, পালকি চলে এ হে
পালকি চলে, পালকি চলে এ হে
পালকি চলে, পালকি চলে এ হে
দুলকি চলে (হুন হুন না)
নৃত্য তালে (হুন হুন না)
ছয় বেহারা (হুন হুন না)
জোয়ান তারা (হুন হুন না)
গ্রাম ছাড়িয়ে (হুন হুন না)
আগ বাড়িয়ে (হুন হুন না)
নামল মাঠে তামার টাটে
তপ্ত তামা (হুন হুন না)
যায় না থামা (হুন হুন না)
উঠছে আলে (হুন হুন না)
নামছে গাড়ায় (হুন হুন না)
পালকি দোলে ঢেউয়ের নাড়ায়
পালকি দোলে ঢেউয়ের নাড়ায়...
ঢেউয়ের দোলে অঙ্গ দোলে রে
মেঠো জাহাজ সামনে বাড়ে
ছয় বেহারার চরণ দাঁড়ে
ঢেউয়ের দোলে, অঙ্গ দোলে রে।
[পালকি চলে, পালকি চলে
পালকি চলে রে, পালকি চলে!
পালকি চলে, পালকি চলে
পালকি চলে রে, পালকি চলে!]
(হেঁইয়ারে হেঁইয়া, হেঁই সামালো হেঁইয়া রে
হেঁইয়ারে হেঁইয়া হেঁই সামালো হেঁইয়া রে)
সামাল হেঁকে চলল বেঁকে,
ছয় বেহারা মর্দ তারা
সামাল হেঁকে চলল বেঁকে
(হেঁইয়ারে হেঁইয়া হেঁই সামালো হেঁইয়া রে
হেঁইয়ারে হেঁইয়া হেঁই সামালো হেঁইয়া রে)
জোর হাঁটুনি খাটনি ভারি
মাঠের শেষে তালের সারি
জোর হাঁটুনি খাটনি ভারি
তাকাই দূরে শূন্যে ঘুরে
চিল ফুকারে মাঠের পারে
গরুর বাথান গোয়াল থানা
আ, ওই গো গাঁয়ের ওই সীমানা
আ হা ওই গো গাঁয়ের ওই সীমানা
আ আ...
(হুন হুন না হুন হুন না হুন হুন না হে হুন হুন না
হুন হুন না হুন হুন না হুন হুন না হে হুন হুন না)
বৈরাগী সে কণ্ঠী বাঁধা
ঘরের কাঁথে লেপছে কাদা
(হুন হুন না হুন হুন না)
মটকা থেকে চাষার ছেলে
দেখছে ডাগর চক্ষু মেলে
(হুন হুন না হুন হুন না)
দিচ্ছে চালে পোয়াল গুছি
বৈরাগীটির মূর্তি শুচি
(হুন হুন না হুন হুন না)
পেরজাপতি হলুদ বরণ
শশার ফুলে রাখছে চরণ
(হুন হুন না হুন হুন না)
কার বহুরি বাসন মাজে
পুকুর ঘাটে ব্যস্ত কাজে
(হুন হুন না হুন হুন না)
এঁটো হাতেই হাতের পোঁছায়
গায়ের মাথার কাপড় গোছায়
(হুন হুন না হুন হুন না)
[পালকি দেখে (হুন হুন না)
আসছে ছুটে (হুন হুন না)
ন্যাংটা খোকা (হুন হুন না)
মাথায় পুঁটে (হুন হুন না)] - ২
পোড়োর আওয়াজ যাচ্ছে শোনা
খোড়ো ঘরে চাঁদের কোণা
(হুন হুন নাহুন হুন না)
পাঠশালাটি দোকান ঘরে
গুরুমশাই দোকান করে
(হুন হুন না হুন হুন না)
পোড়ো ভিটের পোতার পরে
শালিক নাচে ছাগল চরে
(হুন হুন না হুন হুন না)
গ্রামের শেষে অশথতলে
বুনোর ডেরায় চুল্লী জ্বলে
হে...
গ্রামের সীমা ছাড়িয়ে ফিরে
পালকি মাঠে নামল ধীরে
আবার মাঠে (হেঁইয়া হে)
তামার টাটে (হেঁইয়া হে)
কেউ ছোটে কেউ কষ্টে হাঁটে (হেঁইয়া হে)
মাঠের মাটি (হেঁইয়া হে)
রৌদ্রে ফাটে (হেঁইয়া হে)
পালকি মাতে আপন নাটে
শঙ্খচিলের (হেঁইয়া হে)
সঙ্গে যেচে (হেঁইয়া হে)
পাল্লা দিয়ে (হেঁইয়া হে)
মেঘ চলেছে (হেঁইয়া হে)
তাতারসির তপ্ত রসে
বাতাস সাঁতার দেয় হরষে রে
গঙ্গাফড়িং লাফিয়ে চলে
বাঁধের দিকে সূর্য ঢলে
বাঁধের দিকে সূর্য ঢলে রে
[পালকি চলে, পালকি চলে
পালকি চলে রে, পালকি চলে!
পালকি চলে, পালকি চলে
পালকি চলে রে, পালকি চলে!]
হেঁইয়া হেঁই রে হেঁইয়া হা
হেঁইয়া হেঁই রে হেঁইয়া হা
পালকি চলে রে
অঙ্গ টলে রে
হেঁইয়া হেঁই রে হেঁইয়া হা
পালকি চলে রে
অঙ্গ টলে রে
আর দেরী কত
আরো কত দূর
হেঁইয়া হেঁই রে হেঁইয়া হা
পালকি চলে রে
হেঁইয়া হেঁই রে হেঁইয়া হা
পালকি চলে রে
অঙ্গ টলে রে
হেঁইয়া হেঁই রে হেঁইয়া হা
সূর্য ঢলে রে।
🔊 আমার মতামত - এই কথা, এই সুর এই শিল্পী আর পৃথিবীতে ফিরে আসবে না।
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত,
সলিল চৌধুরী,
হেমন্ত মুখোপাধ্যায় যেন তিন দেবতার একত্র সমাবেশ। বাংলার গ্রামকে কি সুন্দর ভাবে যে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে - ভাবা যায়না! মোহিত! মেস্মারাইজড! অমর সৃষ্টি ❤️