একবার পুজোর গান হবে। সকাল বেলায় গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার প্রথমে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কাছে আসবেন এবং তারপরে শ্যামল মিত্রের কাছে যাবেন গান নিয়ে। সকাল ৮ টা কি ৮ঃ৩০ বাজে শ্যামল মিত্রের ফোনটা হঠাত বেজে উঠলো। ফোনের অপর পাশে ছিলেন হেমন্ত বাবু। তিনি জানতে চাইলেন গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার ও তাঁর কাছে অর্থাৎ শ্যামল বাবুর বাড়িতে গিয়েছেন কিনা?
শ্যামল বাবু বললেন না আসেনি। তখন হেমন্ত বাবু জানালেন আগের দিন নচিকেতা ঘোষ বম্বে থেকে কোলকাতায় ফিরেছেন। আজ সকাল বেলাতেই গৌরী বাবু নচিকেতা ঘোষ বাড়ি গেছেন নতুন গান নিয়ে। ফলে হেমন্ত বাবুর কাছেও যাবেন না আবার শ্যামল বাবুর কাছে যাবেন না
বোঝাই গেলো নচিকেতা ঘোষর সুরে গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের লেখায় পুজোর গান সেবার অন্য কেউ গাইবে। স্বাভাবিক ভাবেই মুড অফ। শ্যামল মিত্র নিজের ঘরে চলে গিয়ে একটি Akhtari Bai এর রেকর্ড চালিয়ে দিয়ে বসে থাকলেন। বেলা ১ টার সময়ে গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার শ্যামল বাবুর বাড়িতে এলেন। কিছু একটা মিথ্যে বলে দেরি হওয়ার কারনটা ডাকতে চাইলেন। প্রচন্ড খেপে গেলেন শ্যামল বাবু বললেন - আমাকে মিথ্যে কথা বলা হচ্ছে? ক্যানো তুমি আমাকে বলতে পারলে না যে, গান নিয়ে তুমি নচিদাদার বাড়িতে গিয়েছিলে। তুমি এখন যাও আমি তোমাকে একদম সহ্য করতে পারছি না। কয়েক মুহুর্ত চুপচাপ তারপরে গৌরিবাবু বললেন- শ্যামল! ডবল ডেকার বাসে করে তোর এখানে আসতে আসতে দুটো মুখরা মাথায় এসেছে। যদি কখনো সুর করিস। শ্যামল বাবু বললেন - কি সেটা, বলো শুনি?
গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার মুখরা দুটি শোনালেন। বেলা ১ঃ৩০ দুজনে বসলেন। খাওয়া দাওয়া মাথায় উঠলো। বেলা ২ঃ৩০ দিকে গান লেখা কমপ্লিট। তারপরে সুর করাও শেষ হলো। গান দুটো সম্পুর্ন হবার পরে শ্যামল বাবু শোনালেন গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারকে আর গান শুনে গৌরি বাবু ঝড় ঝড় করে কেদে ফেললেন। সে বছর ই শ্যামল মিত্র প্রথমবার সিলভার ডিস্ক পেয়েছিলেন ওই রেকর্ডটির জন্য। রেকর্ডটির এক পিঠে ছিলো "ধরো কোনো এক শ্বেত পাথরের প্রাসাদে" আর উল্টো পিঠে ছিলো সেই অবিস্বরনীয় গান - "এই সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে মন যেতে নাহি চায়" আর এই গানের লিরিক্স শেয়ার করবো এই পোষ্টের মাধ্যমে