পোষ্ট করছি এমন কিছু গল্প ও গানের লিরিক্স যা হয়তো বুকের ভেতর জমে থাকা অভিমানের মেঘ গুলোকে ঝড়িয়ে দিলেও দিতে পারে। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দেবদাস এর শেষ কয়েকটা অংশ শুনাচ্ছি - সাধু ভাষাকে চলিত ভাষায় রূপান্তরিত করে।
দেবদাস গরুর গাড়ীতে যখন উঠে বসলো। তখন মায়ের কথা মনে করে তার চোখ ফেটে জল এসে পড়লো। আর একখানি স্নেহকোমল মুখ, জীবনের শেষ ক্ষনে পবিত্র হয়ে দেখা দিলো। সে চন্দ্রমুখীর। যাকে সে পাপিষ্ঠা বলে চিরদিন ঘৃণা করেছে আজ তাঁকেই মায়ের পাশে সগৌরবে ফুটে উঠতে দেখে তার চোখ দিয়ে ঝড়ঝড় করে জল পড়তে লাগলো।
এ জীবনে আর দেখা হবে না। হয়তো বহুদিন পর্যন্ত সে খবরটাও পাবে না। তো পার্বতীর কাছে যেতে হবে। দেবদাস শপথ করেছিলো আর একবার দেখা দেবেই। পথ ভালো নয়। বর্ষার জল কোথাও পথের মাঝে জমে আছে আবার কোথাও বা পথ ভেঙ্গে গেছে। গরুর গাড়ী, হটর হটর করে চললো।
রাত্রি প্রায় ১২ টার সময়, গাড়ী হাতিপোতায় জমিদার বাবুর বাড়ির সামনে অশ্বততলায় এসে উপস্থিত হলো। গাড়োয়ান ডেকে বললো - "বাবু নেমে এসো"। কোন উত্তর নেই। আবার ডাকলো তবুও উত্তর নেই। তখন সে ভয় পেয়ে প্রদীপ মুখের কাছে আনলো। দেবদাস চেয়ে আছে। ঠোট নেড়ে কি বললো কিন্তু শব্দ হলো না।
গাড়োয়ান আবার ডাকলো, "ও বাবু, ও বাবু"। দেবদাস একটা হাত তুলতে চাইলো। কিন্তু হাত উঠলো না শুধু তার চোখের কোণ বেয়ে দু ফোটা জল গড়িয়ে পড়লো। গাড়োয়ান তখন বুদ্ধি খাটিয়ে অশ্বততলা খর বিছিয়ে বিছানা করলো। তারপর, অনেক কষ্টে দেবদাসকে তুলে এনে তার উপরে শুয়ে দিলো। দেবদাস অনেক কষ্টে পকেট থেকে একশো টাকার একখানা নোট বের করে দিলো। বাকি গল্পটুকু শুনতে এখানে ক্লিক করুন