১৯৩৯ সালের অক্টোবরের ঘটনা। পুজোর পর, সাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংগে একবার কাজী নজরুলের দেখা হয়েছিলো। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিশু সন্তান মারা গিয়েছিলো। দুপুরে সৎকারের ব্যাবস্থা করে বাড়ী ফিরে এসেছেন। এমন সময়, বিকেলের দিকে নলিনীকান্ত সরকারের একটা টেলিগ্রাম পেলেন যে, নলিনীবাবু এবং নজরুল তার বাড়ী আসছেন।
প্রথমত, এমন একটা ঘটনা ঘটেছে তার ওপর ওরা আসবেন; যাইহোক- যথাসাধ্য ব্যাবস্থা করলেন তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। রাত ৯ টায় লাভপুরে নামলেন নলিনীকান্ত সরকার এবং কাজী নজরুল ইসলাম। সব ঘটনা শুনে নজরুল বললেন- অন্যকোথাও ব্যাবস্থা করে দাও।
তারাশঙ্কর বাবুর অনুরোধে তাঁরা সে রাত্রি থাকলেন তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ীতে। পরদিন সকালে অন্য একটা কাজ সেড়ে ফিরে এসেই তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় কে বললেন- "রাতে আসর পাতো, গান গাইবো"। বিকেলে কাজী সাহেব হাজির হলেন দেবী ফুল্লরার মহাপীঠে। নাট মন্দিরে পদ্মাসনে বসে প্রাণায়াম শুরু করলেন নজরুল।
মুহূর্তের মধ্যে স্থির হয়ে গেলো শরীর। সমস্থ শরীরে ঘাম, চোখ দুটো জবা ফুলের মতো লাল। বোঝা গেলো তখনো পুর্ন চেতনায় আসেননি তিনি। ওই অবস্থাতেও গান রচনা করেম সুর করে দেবতা এবং অন্যান্য সবাইকে শুনিয়ে বাড়ী ফিরলেন।
সন্ধেতে শুরু হলো গানের আসর। একটানা রাত দুটো পর্যন্ত গাইলেন কবি। মধ্যরাতে গাইলেন শ্যামা সঙ্গীত। তখন কবির গানে এবং ভাবে প্রাচীন ভারতের এক সাধককে প্রত্যক্ষ করেছিলেন তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই গান শুনে সদ্য পুত্র হারা বাবার মনে এক অদ্ভুদ প্রশান্তি যেন নেমে এসেছিলো