হেমন্ত মুখোপাধ্যায় যেকোন গান রেকর্ডিং এর সময়ে মুলত প্রথম টেক তে ওকে করে দিতেন তার বিশ্বাস ছিলো একজন শিল্পী প্রথমবারে যে পারফামেন্স টা দিবে বা যেভাবে গাইবে সেটাই তার সেরা গাওয়া। একান্তই খারাপ না গেয়ে থাকলে মুলত দ্বিতীয়বার টেক এর দরকার পড়তো না হেমন্ত বাবুর। তিনি এভাবেই গানগুলো তৈরি করাতেন শিল্পীদের দিয়ে
তো সেবার একটা গানের রেকর্ডিং চলছে, গানটা গাওয়ার পরে বনশ্রী সেনগুপ্তের মনে হলো যে, এই গানটা যেভাবে তিনি গেয়েছেন তার থেকেও ভালোভাবে তিনি হয়তো গাইতে পারবেন। হেমন্ত বাবুকে গিয়ে বললেন - দাদা, এই গানটা আমার মনে হচ্ছে আমি আর একবার গাইবো; আমার মনে হচ্ছে এর থেকে ভালো আমি গাইতে পারবো
সব শুনে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় বললেন, আরো একবার গাইতে চাও। বেশ! গাওনা, ক্ষতি কি? আরো এক দুবার রিহার্স করার পরে বনশ্রী সেনগুপ্ত যখন গানটা গাওয়ার জন্যে স্টুডিওতে পৌঁছুলেন সেই সময়ে দেখলেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায় স্টুডিওতে নেই। হেমন্ত দা কোথায় গেলো? খোজ করতে কেউ একজন জানালো যে, হেমন্ত দা কে তো দেখলাম গেইটের ওদিকে যাচ্ছেন, বোধয় বাড়ীর দিকে যাচ্ছেন
ছুটতে ছুটতে বনশ্রী সেনগুপ্ত পৌঁছুলেন হেমন্ত বাবুর কাছে এবং গিয়ে বললেন - হেমন্ত দা আমি যে বললাম গানটা আরেকবার গাইবো। তখন হেমন্ত বাবু বললেন - হ্যা আমি তো তোমাকে গাইতে মানা করিনি। কিন্তু রেকর্ডে যে গানটা থাকবে সেটা কিন্তু আমার নেয়া হয়ে গেছে। তুমি আরেকবার গাও কিন্তু আমার মনে হচ্ছে রেকর্ডে তোমার ওই প্রথম গানটাই হিট করবে
হেমন্ত বাবুর কথা সেদিন মাথা নিচু করে মেনে নিয়েছিলেন বনশ্রী সেনগুপ্ত। তৈরি হয়েছিলো সেই গান - আর এক নতুন কোন পৃথিবীর খোজে